ব্রেকিং নিউজ

ময়মনসিংহে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিক বিক্ষোভ, ট্রাকচাপায় নিহত ২

ময়মনসিংহের ভালুকায় শ্রমিক ছাঁটাই ও বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরে শিল্প পুলিশ লাঠিচার্জ ও ৬০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হন। এ শ্রমিকরা আত্মরক্ষার্থে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ট্রাকচাপায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

সোমবার ভালুকা উপজেলার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ক্রাউন ওয়্যার প্রাইভেট লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার আবদুল রহিমের ছেলে ও কারখানার শ্রমিক হারুন অর রশিদ। অপরজন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার চিয়ারকান্দা গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ও ওই মিলের শ্রমিক জুয়েল (২৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিজিএমইএ ঘোষিত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা ছুটি দেয়ার পরও ক্রাউন ওয়্যার কোম্পানিতে ছুটির মধ্যেই শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হয়। ওই সময় কাজে যোগদান না করায় গত রোববার পাঁচ শতাধিক শ্রমিককে মিল কর্তৃপক্ষ ছাঁটাই করে।

সোমবার শ্রমিকরা কাজে যোগদান করতে এসে দেখে গেটের সামনে কারখানা বন্ধের নোটিশ টানানো রয়েছে। এ সময় শ্রমিকরা মিল কর্তৃপক্ষের কাছে গত মাসের বেতন দাবি করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আগামী বুধবার বেতন দিতে চাইলে শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করে। তারা তাদের দাবি আদায়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এ সময় শ্রমিকরা কারখানার দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রথমে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু শ্রমিকরা নিয়ন্ত্রণে না আসায় পুলিশ লাঠিচার্জ, ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ সময় অ্যাডমিন বিভাগসহ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে মিল থেকে বের হয়ে আসা স্থানীয় ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনীর নেতা আবু হানিফের নেতৃত্বে শ্রমিকদের উপর হামলা চালায়। ওই সময় ছবি তুলতে গেলে মিলের গুণ্ডাবাহিনী যুগান্তরের স্থানীয় প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম জুয়েলের মোবাইল, ক্যামেরা আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। পরে শিল্প পুলিশের সহায়তায় তা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সময় মালিক পক্ষের ধাওয়া খেয়ে আত্মরক্ষার্থে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী একটি ট্রাকচাপায় দুজন শ্রমিক নিহত হন। হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

শ্রমিকরা জানায়, রোববার পর্যন্ত কারখানা খোলা ছিল। কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সোমবার সকালে কারখানায় কাজ করতে এসে দেখে গেটে কারখানা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধের নোটিশ টানানো রয়েছে। ওই সময় তারা বাড়ি যাওয়ার জন্য গত মাসের বেতন দাবি করলে মিল কর্তৃপক্ষ তা দিতে অনীহা প্রকাশ করে।

ওই মিলের জেনারেল ম্যানেজার জাকারিয়া সোহেল জানান, বুধবার শ্রমিকদের বেতন দেয়া হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই সোমবার থেকে মিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের উপর কোনো হামলা করা হয়নি। রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন মারা গেছে যার সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।

শিল্প পুলিশ জোন-৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার নূরুন নবী জানান, শ্রমিকরা ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ ও বেতনের জন্য বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের শান্ত হওয়ার জন্য বলা হয়। শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।