ব্রেকিং নিউজ

সরিষাবাড়ীতে ড্রেনেজ নির্মাণের নামে কর্তন করা হচ্ছে বনায়নকৃত গাছ

ইসমাইল হোসেন, সরিষাবাড়ী(জামালপুর)প্রতিনিধিঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার অধীনস্থ ৬নং ওয়ার্ডের দিয়ার কৃষ্ণা শহরস্থ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য সরিষাবাড়ী কলেজ রোড নামক রাস্তার পাশ দিয়ে নির্মিত হচ্ছে আরসিসি ঢালাইয়ের ড্রেনেজ। যার নির্মাণ কাজের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে সরিষাবাড়ী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম নিজ উদ্যোগে পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন এবং সরিষাবাড়ী কলেজ রোডের পাশ দিয়ে এই গাছগুলি তার নির্দেশেই রোপন করা হয়ে ছিল বলে জানা যায়। আজ দীর্ঘ ২৫/২৬ বছর পর এই পরিপক্ক দামি গাছগুলো বন বিভাগের বিনা অনুমতিতেই ড্রেনেজ নির্মাণের নাম করে কর্তন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে স্বার্থন্বেষী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

তাই উক্ত বিষয়টি সম্পর্কে পৌরসভায় জানতে চাইলে তারা বলেন ২০১৮ -১৯ অর্থ বছরের গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে এটি একটি প্রকল্প। যার বাস্তবায়ন হবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জামে মসজিদ হতে টিএ্যান্ডটি মোড় পর্যন্ত ২২৫ মিটার এবং এর নির্মিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ লক্ষ টাকা। কিন্তু ড্রেনেজ নির্মাণের কাজের সাথে গাছ কর্তনের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানান পৌর কর্তৃপক্ষ। তবুও কেন গাছগুলো কর্তন করা হচ্ছে সেটা অদৃশ্য। জানা গেছে প্রকল্পটির দায়িত্ব পেয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আফরোজ কনস্ট্রাকশন লিঃ এবং তার নির্মাণ কাজের মেয়াদকাল নির্ধারিত ছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারেনি বলে জানা যায়।এখন নানান অযুহাতে অধিক মুনাফার লক্ষ্যে বনায়নকৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে ড্রেনেজ নির্মাণের পায়তারা করছে প্রতিষ্ঠানটি।এলাকাবাসী যদিও ড্রেনেজ নির্মাণের কাজ শুরু করার পূর্বেই উক্ত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছিলেন, রোড়ের পাশদিয়ে দীর্ঘদিনের লালিত গাছগুলো সুরক্ষিত রেখে কাজ করতে কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি এলাকাবাসীর অনুরোধ অমান্য করে নিজেদের মনগড়া কাজ শুরু করেন। যার কারণে রাস্তার পাশ দিয়ে বৃহৎ ৪০-৫০টি সুরক্ষিত গাছ আজ অরক্ষিতভাবে দৃশ্যমান। এলাকাবাসী আরোও বলেন ড্রেনেজ এর মাটি খননের কারণে প্রতিটি গাছের মূল শিকড় বেরিয়ে এসেছে এবং অসংখ্য শিকড় কাটা পড়েছে। যার কারণে গাছগুলি মাটি শূন্য হয়ে যেকোনো সময় উপড়ে পড়ে যেতে পারে ঘরবাড়ি কিংবা জনবহুল রাস্তার উপর। তবুও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি সেইদিকে কর্ণপাত না দিয়ে নেপথ্যে ২৫-৩০ লক্ষ টাকার বাণিজ্য করার লক্ষ্যে নতুন ফন্দিতে বলছেন ড্রেনেজ নির্মাণের কাজ এক তৃতীয়াংশ শেষ হয়েছে বাকি একাংশ কাজ শেষ করতে গাছগুলো কর্তন করা অনিবার্য।

কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো একের এক কর্তন নিয়ে যাচ্ছে। আর এই দেখে সমাজের সুধীমহল বলছেন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বনায়ন কৃত প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে। তাই উক্ত বিষয়ে ড্রেনেজ নির্মাণ কাজের ঠিকাদার মেসার্স আফরোজ কনস্ট্রাকশনের মালিক এ.কে.এম নুরন্নবীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে গাছ কর্তনকারী শ্রমিক সবুজ ও দারোগ আলীর সাথে কথা বললে তারা জানান, পৌর প্যানেল মেয়র মোহাম্ম্দ আলীর নির্দেশে আমরা গাছ কর্তন করছি। ওদিকে পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্ম্দ আলীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, গাছ কর্তন করার বিষয়টি পৌরসভার সিদ্ধান্ত, আমার নয়। কিন্তু নেপথ্যে জানা গেছে, উক্ত ড্রেনেজ নির্মাণের কাজটি সাব কন্ট্রাকে পরিচালনা করছেন পৌর প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী।