ব্রেকিং নিউজ

স্কোয়াশ সবজি চাষে সফল রাণীনগরের সৌরভ

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

পরীক্ষা মূলক বিদেশী সবজি স্কোয়াশ চাষে ভাল ফলন পেয়ে সফল স্কোয়াশ চাষি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন নওগাঁর রাণীনগরের বেকার যুবক সৌরভ খন্দকার।
স্কোয়াশ অনেকটা বাঙ্গির মতো দেখতে ও মিষ্টি কুমড়ার স্বাদে পুষ্টিকর অষ্ট্রোলিয়ান একটি সবজি। স্কোয়াশ রাণীনগর উপজেলায় প্রথমবার চাষ হলেও বাজারে এর চাহিদা ও দাম আশানুরুপ রয়েছে। সবজি হিসেবে এই এলাকায় স্কোয়াশ নতুন হওয়ায় এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে ও স্কোয়াশ ক্ষেত দেখতে স্থানীয় অন্যান্য ফসল চাষিরা আসছেন স্কোয়াশ চাষি সৌরভ এর কাছ।

জানা গেছে, উপজেলা সদরের সিম্বা গ্রামের আবু রায়হান খন্দকারের মেঝো ছেলে সৌরভ খন্দকার বেশ কিছুদিন আগে ইউটিউবে স্কোয়াশ চাষের একটি প্রতিবেদন দেখে বগুড়া জেলা শহরের একটি দোকান থেকে একশত গ্রাম বীজ কিনে বাড়ির খলিয়ানে বীজতলা প্রস্তুত করে বপণ করলে এক সপ্তাহের মধ্যে স্কোয়াশের চারা রোপণের উপযোগী হলে তার বাবার পৈতিক প্রায় তিন কাঠা জমিতে চারা রোপণের প্রায় ৩৫ দিনের মধ্যেই গাছে দুই/তিনটি করে স্কোয়াশ ফল ধরতে শুরু করে। স্কোয়াশের ওজন প্রায় আধা কেজি থেকে এক কেজি হতেই স্থানীয় বাজারে বিক্রি শুরু করেন চাষি সৌরভ।

বর্তমানে বাজারে স্কোয়াশ ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তিন কাঠা জতিতে পরিচর্চা, বীজসার ক্রয় সহ এখন পর্যন্ত চাষি সৌরভের প্রায় তিন থেকে চারশত টাকা খরচ হয়েছে। তার স্কোয়াশ সবজি ক্ষেতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি স্কোয়াশ গাছ রয়েছে। পরীক্ষা মূলক ভাবে স্কোয়াশ চাষ করে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে নিবির পরিচর্চা ও কোন রোগ-বালাই না হওয়ায় এবং স্বল্প খরচে ভাল ফলন পেয়ে লাভবান হওয়ায় চাষিদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বেকারত্ব দূর করে স্বাভলম্ভী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

রাণীনগর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্কোয়াশ মূলত একটি শীতকালীন সবজি। মিষ্টি কুমড়ার মতো সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবজি। এর পাতা-কান্ডও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। বেলে, দোআঁশ মাটিতে স্কোয়াশ ভাল হয়। প্রতিটি স্কোয়াশ গাছ রোপণের পর থেকে প্রায় আড়াই মাসে ১৪ থেকে ১৫ টির মতো ফল ধরে। প্রতিটি স্কোয়াশ এক থেকে দেড় কেজি ওজনের হয়ে থাকে। স্কোয়াশ চাষ, সার-বীজ, বিভিন্ন পচির্চাসহ বিঘা প্রতি প্রায় ১০হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এক বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষ করে আড়াই থেকে তিন মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি হয়ে থাকে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, সৌরভের স্কোয়াশ ক্ষেত খুব ভাল হয়েছে। ফলনও ভাল হচ্ছে।আমাদের পক্ষ থেকে যথাযথ দিকনির্দেশনা, সময় মত সঠিক পরিচর্চাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এই এলাকায় সবজিটি নতুন হলেও বাজারে চাহিদা ও দাম ভাল থাকায় তিনি লাভবান হয়ে স্বাভলম্ভী হবে বলে আশা করছি।