ব্রেকিং নিউজ

কাজিপুরের সিন্দুর আটা মৌজায় তিন ফসলি জমি নষ্ট করে আশ্রায়ন প্রকল্প নির্মাণের অভিযোগ গ্রামবাসীর

ইসমাইল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় ৮নং চরগিরিশ সিন্দুর আটা মৌজায় তিন ফসলি জমি নষ্ট করে আশ্রায়ন প্রকল্প নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে এক স্বার্থন্বেষী মহল। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার ও অত্র এলাকার সুপরিচিত আমিনের যোগসাজশে উপজেলা প্রশাসন মিলে এই প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে। যাতে করে এখান থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া সুযোগ সৃষ্টি হয়। যার বাস্তবিক প্রমাণ পার্শ্ববর্তী ছালাল মৌজায় নির্মানিত আশ্রায়ন প্রকল্পটি।

বিগত ৪ বছর পূর্বে ভূমিহীন অসহায় হতদরিদ্রের জন্য এই আশ্রায়ন প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়ে ছিল বলে জানা যায়। এখানে ৯০টি পরিবার বসবাস করার কথা থাকলেও বাস্তবিক ভাবে দেখা গেছে এখানে বসবাস করছে ২০/২৫ টি পরিবার।বাকি ঘরগুলি পরিতক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে তালাবন্ধ ঘরগুলি অত্র এলাকার ধনী ও নেতৃত্ব স্থানীয় লোকদের নামে বরাদ্দকৃত। এদিকে সিন্দুর আটা মৌজায় আরেকটি আশ্রায়ন প্রকল্প নির্মাণ করা হবে, এটা কারো বোধগম্যে ছিলনা। সকলেই বলছেন সাবেক আশ্রায়ন প্রকল্পেই বসবাস করার মত লোক নেই।সেখানে আরেকটি আশ্রায়ন প্রকল্প নির্মাণ করে ফসলি জমিগুলো নষ্ট করার অপচেষ্টা মাত্র।খোরশেদ আলম (৭০) বলেন,আনুমানিক ১৯৭৩/৭৪ সালে খরস্রোতা নদী যমুনার করালগ্রাসে নদীগর্ভে হারিয়ে যায় এই সিন্দুর আটা গ্রাম। তখন ভূমিহীন অসহায় হয়ে পড়ে এই গ্রামের শতশত পরিবার। উদ্বাস্তু আশ্রয়হীন মানুষের মত জীবিকার সন্ধানে ছুটে চলে একেকজন একেক দিকে। যার কারণে ১৯৮০ সালে (বিআরএস)রেকর্ড হওয়াকালীন সময়ে কোন জৌদ্দার তার নামীয় খতিয়ান খোলতে পারেনি।

কারণ, (বিআরএস)রেকর্ডের সময় এই সিন্দুর আটা মৌজার অধিকাংশ সম্পত্তিই ছিল নদীর ভূ-গর্ভে। তাই সরকারী ভাবেই সিন্দুর আটা মৌজার অধিকাংশ জমিগুলো ১নং খাস খতিয়ানে চলে যায়। পরবর্তীতে নদীর নাব্যতা হারিয়ে চর জাগ্রত হলে এলাকা কিছু অসাধু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি জমিগুলো দখলের অপতৎপরতা চালায়। কিন্তু সফলকামী না হয়ে অন্য পন্থা অবলম্বন করে আজ আশ্রায়ন প্রকল্প নিয়ে এসেছে। যদি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয় তাহলে অনেক ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষক ভূমিহীন হয়ে পড়বে। অর্থনৈতিক অসঙ্গতির কারণে তাদের সন্তানদের শিক্ষাসহ উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করছেন এলাকার সুধীজনেরা। চরাঞ্চলের মানুষগুলো অশিক্ষিত সহজসরল হওয়ায় কারণে তারা মনে করেছিলেন তাদের বাপ-দাদার ওয়ারিশান সম্পত্তি তাদেরি আছে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের হুমকিতে আজ তারা বুঝতে পেরেছেন। তাদের বাপ দাদার সম্পত্তিগুলো সরকারি খাস খতিয়ানে চলে গেছে। তাই আজ তারা দিশেহারা নাওয়া-খাওয়া হীন পাগলের মত অভিপ্রায়। অসহায় প্রান্তিক কৃষকরা কান্না জড়িত কন্ঠে অভিযোগ তুলে বলেন এই প্রকল্পটি উদ্দেশ্য প্রণীত ছাড়া আর কিছু নয়।

কারণ আশ্রায়ন প্রকল্পে ৪০/৫০ জন মানুষকে আশ্রয় দিতে গিয়ে সরকার ভূমিহীন করতে যাচ্ছেন প্রায় ২শ পরিবারকে। এদিকে পূর্বের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭৬ নং ঘরের মালিক গোলাম মাওলা মুন্সি সত্যতা স্বীকার করে বলেন এখানে ৯০টি পরিবার থাকার কথা থাকলেও ২০/২৫ টি ঘর বাদে বাকি সবগুলোই তালাবন্ধ ও পরিতক্ত অবস্থায়ত্ত। তাই সিন্দুর আটা গ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা জানান সরকার কোটি কোটি ব্যয় করে আশ্রায়ন প্রকল্প নির্মাণ করেন কিন্তু সেখানে কোন মানুষ বাস করেনা। আশ্রয়নের আশ্রিত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়,প্রশাসন যদি সিন্দুর আটা মৌজার উর্বর তিন ফসলি জমিগুলো নষ্ট না করে আশ্রায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। তাহলে মস্ত বড় ক্ষতি হয়ে যাবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের। তাই অন্যত্র কোন মৌজায় কিম্বা এলাকায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার অনুরোধ জানাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসনকে সিন্দুর আটাবাসী। এদিকে উক্ত বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হক মিন্টুকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সরকারি জমিতে সরকার তার প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন।এখানে কারো কিছু বলার নেই। আমি প্রতিনিধি হিসেবে অত্র এলাকার উন্নয়ন চাইবো এটাই স্বাভাবিক।

Leave a Reply