ব্রেকিং নিউজ

কেন পেঁয়াজের এতো প্রয়োজন

ইসমাইল হোসেন,সংবাদকর্মীঃ পেঁয়াজ আসলে কি? কেন পেঁয়াজের এতো কদর। পেঁয়াজ ছাড়া কি রান্না করা যায় না। নাকি পেঁয়াজহীন খাবার সুস্বাদু হয়না। এমন প্রশ্ন একজন গৃহিণী তথা রাঁধুনিকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, পেঁয়াজ ছাড়া রান্না যেন একটি অসম্পূর্ণ খাবার। খাবারের স্বাদের তৃপ্তিতা সৃষ্টি করতে চাইলে পেঁয়াজের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

এদিকে পেঁয়াজ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উপাত্তে জানা যায়, পেঁয়াজ আসলে কোন সবজি নয়। এটি একটি মশলা জাতীয় উদ্ভিদ। এটি বিশ্বের সব দেশেই কম বেশী হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম এলিয়াম সেপা।

এর কিছু স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে বলে মানবসভ্যতা ইতিহাসের আদিযুগ থেকেই পেঁয়াজের ব্যবহার করে আসছে মানুষ। জানা গেছে পৃথিবীর প্রায় সবখানেই, সব সমাজেই রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়,বর্তমান বিশ্বে উন্নত রেস্টুরেন্টগুলো সহ গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ে রান্নাঘরে রান্নায় ব্যবহার হচ্ছে পেঁয়াজ। তাই পেঁয়াজ নিত্য প্রয়োজনীয় রান্নার মশলাদির মধ্যে একটি মৌলিক উপকরণ বলে চিহ্নিত। পুষ্টিবিদের মতে পেঁয়াজে রয়েছে মূলত তিনটি উপাদান – পানি, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার। এছাড়া পুষ্টিগুণ বলতে ভিটামিন সি বি ও পটাশিয়াম রয়েছে।

অনেক সময় এটি কিছু কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ,রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখে, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পেঁয়াজে থাকা এলিসিন নামে উপাদান এন্টি ফাংগাল এবং এন্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে বলেও আলোচিত। প্রাচীন কালে কলেরা ও প্লেগ রোগের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হত পেঁয়াজ। এখনো গ্রামাঞ্চলে অনেকেই সাধারণত ঠান্ডাসর্দিতে কাচা পেঁয়াজ ব্যবহার করে বলে শ্রুতি হয়।

কিন্তু আজ সেই সহজলভ্য পেঁয়াজ হয়ে গেছে অমৃত। যেন পেঁয়াজের দামের ঝাঁঝে ক্রেতারা চোখ কচলাতে কচলাতে অস্থির। বাজারে স্থিতিশীলতা নেই বলে লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলছে পেঁয়াজের দাম। ৩০ টাকার পেঁয়াজ এখন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অনেকে পেঁয়াজ কিনতে পারছেনা। কিন্তু এই পেঁয়াজ মানব দেহের জন্য যে উপকারিতা বহন করতো। সেটা হতে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ।

তাই অন্তরালের গুণীমহলের ধারণা, যে পেঁয়াজে এতো গুণাবলী, সে পেঁয়াজ নিয়ে কেন এতো লুকোচুরি।পেঁয়াজকে খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হতে পারেনা। বরং আমাদের নৈতিকতাকে পরিমার্জিত করে সুষ্ঠ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কৃষিজাত শস্যাদি আরও উৎপাদনমূখী করে তুলতে হবে। তাহলেই স্বয়ংকৃত হবে বাংলাদেশর কৃষিজ। অন্যের উপেক্ষা থেকে মুক্তি পাবে সোনার বাংলার জনগণ।

Leave a Reply