ব্রেকিং নিউজ

বেল কেন খাবেন ?

বেল গাছের জন্ম ভারতবর্ষে, বেল লেবু পরিবারের বংশধর। ইংরেজিতে বলা হয় Wood Apple। বেলের উপরের খোসা কাঠের মতো শক্ত বলে এর সংস্কৃত নাম বিলব। বড় বেলগাচের আকার ১০ থেকে ১৭ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। বেল গাছ চারা থাকাকালীন এর গায়ে প্রচুর কাঁটা থাকে, গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে কাঁটাগুলো কমে যায়। ফুল হালকা সবুজ থেকে সাদা রং ধারন করে থাকে। ফলের ভেতরের সাঁস ৮-১৫ কোয়া বা খন্ডে ভাগ করা থাকে। প্রতিটি ভাগে চটচটে আঠার সঙ্গে অনেক বীজ লেগে থাকে। বেল কাঁচা অবস্থায় সবুজ বর্ণের থাকে, আর পেকে গেলে হলদে রঙ ধারণ করে। কচি বেল খাওয়াই উত্তম। তবে পাকা বেলও বেশ উপকারী।

আমরা কিন্তু বেলের নানান গুণাগুণের জন্য প্রতিনিয়ত বেল খেয়ে থাকি। কেননা বেলে আছে নানান ঔষুধী গুণাবলী যা, আমাদের দেহের অনেক উপকার করে থাকে। বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাসিয়াম।

উপকারিতা :
১. কচি বেল টুকরা করে কেটে রোদে শুকিয়ে নিলে তাকে বেলশুট বলে। যাদের আলসার আছে, তারা বেলশুটের সঙ্গে পরিমাণমতো বার্লি মিশিয়ে রান্না করে নিয়মিত খেলে আলসার দ্রুত সেরে যায়।
২. বেল পেট ঠান্ডা রাখে। গরমের সময় পরিশ্রমের পর বেলের শরবত খেলে ক্লান্তিভাব দূর হয়।
৩. বেলের ভিটামিন ‘এ’ চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর পুষ্টি জোগায়। ফলে চোখের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৪. বেল পেটের নানা অসুখ সারাতে দারুণ কার্যাকর। দীর্ঘমেয়াদি আমাশয়-ডায়রিয়া রোগে কাঁচা বেল নিয়মিত খেলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।
৫. বেলের শাঁস পিচ্ছিল বলে এই ফল পাকস্থলীতে উপকারী পরিবেশ সৃষ্টি করে, খাবার সঠিকভাবে হজম করতে সাহায্য করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় ।
৬. বেলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ, যা মুখের ব্রণ সারাতে সাহায্য করে। যাদের পাইলস আছে, তাদের জন্য নিয়মিত বেল খাওয়া উপকারী।
৭. বেলে আছে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি গ্রীষ্মকালীন বহু রোগবালাই দূরে রাখে।
৮. জন্ডিসের সময় পাকা বেল গোলমরিচের সঙ্গে শরবত করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৯. শিশুদের কানের ব্যথা ও ইনফেকশন সারাতে বেলপাতার জুড়ি নেই। বেলপাতা ও তিলের তেল জ্বাল দিয়ে ওই তেল ড্রপার দিয়ে কানে দিলে ব্যথা সেরে যায় ।
১০. নিয়মিত বেল খেলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমে।
১১. সর্দি হলে বেলপাতার রস এক চামচ খেলে সর্দি ও জ্বরভাব কেটে যায়।

Leave a Reply