ব্রেকিং নিউজ

সরিষাবাড়ীতে ১৭ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত, ডিসি বরাবর অভিযোগ

ইসমাইল হোসেন সরিষাবাড়ী(জামালপুর)প্রতিনিধি ঃ শিক্ষকের শিক্ষা নিয়ে আজ প্রশ্নবিদ্ধ অনেক শিক্ষাঙ্গন। কারণ তাদের নৈতিকতা,মননশীলতা আর আচার আচরণের রুক্ষতা দেখে মনে হয় তারা কতটা অমানবিক মনুষ্যত্বহীন। যদিও গুরু শাসন সকল শিক্ষার্থীর জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ। তবুও কোনকোন ক্ষেত্রে শাসনের পরিবর্তে ভালবাসা আর আদর স্নেহ দিয়ে গড়ে তুলতে হয় কোমলমতি শিশুদের।

এমনটিই মুনিষীদের বাণী। কিন্তু আজকাল লক্ষ্য করলেই দেখা যাচ্ছে। অনেক স্কুলেই কোমলমতি শিশুদের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়তি চাপ। যেটা সে নিতে পারছেনা হঠাৎ করেই। তাই ভুলে যাচ্ছে হরহামেশায়।যেমনটি ভুলে গিয়ে ছিল সরিষাবাড়ী চিলড্রেন্স হোম পাবলিক স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। যদিও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য পূর্ব ঘোষিত ছিল ফজরের নামাজ পড়তে হবে।

কিন্তু অধ্যক্ষের নির্দেশ অমান্য করায় ১৭ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাই নির্যাতনের অভিযোগ তুলে জামালপুরের সরিষাবাড়ী চিলড্রেন্স হোম পাবলিক স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হকের বিরুদ্ধে অভিভাবকরা। জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সকাল ১১ টার দিকে অধ্যক্ষ ফজলুল হক ৪র্থ শ্রেণীতে ক্লাশ নিতে যান। ক্লাশ শুরু করার পূর্বে সকল শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করেন।

তোমরা কে কে আজ ফজরের নামাজ পড়েছ। তন্মধ্যে সিমান্ত, সিফাত, সজীব,মিফাত ও জেরিন অকপটে শিখার করে আমরা নামাজ পড়িনি। তখন অধ্যক্ষ ফজলুল হক রাগান্বিত হয়ে সকলকেই প্রচণ্ড বেত্রাঘাত করে এবং স্কুলের পিয়ন আঃ আলিমকে দিয়ে সকলের শরীরেই ব্যথানাশক মলম লাগিয়ে দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়। তখন শিক্ষার্থীরা বাড়ী গিয়ে বলে তাদের স্যার অধ্যক্ষ ফজলুল হক নামাজের নামে সকলকেই এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়েছে এবং স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে।

এই শুনে অভিভাবক মোঃ সেলিম রেজা খুবই মর্মাহত হন এবং কষ্ট পান। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকদের এমন অমানবিক আচরণ রাষ্ট্রীয় আইন বর্হিরভূত বলে তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগপত্র প্রেরণ করেন।এবং অনুলিপি করেন পুলিশ সুপার কার্য্যলয় জামালপুর,জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান, সরিষাবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সরিষাবাড়ী প্রেসক্লাব ও দৈনিক নবতানের সম্পাদক বরাবর। জানা গেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হালিম তৎক্ষণাৎ স্কুলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান বলে জানান। তিনি বলেন রাষ্ট্রীয় ভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ধর্মীয় শিক্ষার উপর তাগিদ রয়েছে।

তবে বেত্রাঘাত বা ভয়ভীতি দেখিয়ে নয়। এদিকে অন্তরালের গুণীমহল বলছে, শিক্ষক হলো পিতৃসমতুল্য । তাই তাদের সভ্য সদাচরণ সর্বদা অবশ্যক। যদি শিষ্টতা, ধৈর্য আর সহিষ্ণুতা শিক্ষকদের মধ্যে না থাকে তাহলে সে কখনোই একজন পরিমার্জিত শিক্ষক হতে পারে না। তাই যারা শিক্ষার নামে দুঃশাসন করে,আতঙ্ক সৃষ্টি করে কোমলমতি শিশুদের মনে। তাদেরকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করা উচিত।

Leave a Reply