ব্রেকিং নিউজ
- ছবি প্রতীকী।

বিয়ের রাতে স্বামী জানল স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা !

বিয়ের প্রলোভনে দিনমজুরের তরুণী মেয়েকে (১৯) একাধিকবার ‘ধর্ষণ’ করেন এক যুবক। পরে অভিযুক্ত যুবকের হুমকির মুখে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয় তরুণীকে। কিন্তু তিনি যে ‘অন্তঃসত্ত্বা’ তা বুঝতে পেরে স্বামী তাকে তালাক দেন। একপর্যায়ে ধর্ষণে অভিযুক্তের বিচার চাইলে গ্রাম্য সালিসকারীরা তরুণীর সন্তান না হওয়া পর্যন্ত আইনি সহায়তা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান। তবে ঘটনা জেনে গত শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত শরীফ মিয়াকে (২২) আসামি করে থানায় মামলা নিয়েছে পুলিশ। মামলাটি দায়ের করেন ওই তরুণীর মা। পরে পুলিশ মামলা নেওয়ার তিন দিন পর আজ মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে ধর্ষণে অভিযুক্তকে ঢাকার কাফরুল থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নে। আসামি শরীফ মিয়া ইউনিয়নের বিলভাদেরা গ্রামের মো. দুলাল মিয়ার ছেলে।

নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক সুভ্র সাহা জানান, গত শুক্রবার মামলার হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ঢাকার কাফরুল থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ওই যুবক একটি নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকের কাজ করছিলেন।

মামলা, তরুণীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তরুণীটি কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। শরীফ মিয়া প্রায় এক বছর ধরে তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিয়ের কথা বলে গত ২৬ মার্চ রাতে তরুণীকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে ধর্ষণ করেন শরীফ। পরে জানাজানি হলে শরীফ ঘটনা অস্বীকার করে বিভিন্ন হুমকি দেন। তরুণীর পরিবার শরীফের পরিবারের কাছে বিচার চাইলে তারাও টালবাহানা করে, তরুণীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। এর জন্য তারা খরচও দিতে চায়। এ অবস্থায় গত ২ আগস্ট যৌতুক দিয়ে তরুণীকে একটি গ্রামে বিয়ে দেওয়া হয়। তরুণী জানান, তিনি ‘সন্তানসম্ভাবনা’-বিয়ের রাতেই স্বামী এটি বলে পরদিন তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

তরুণীর মা জানান, মেয়ে বাড়ি চলে আসার ৪৫ দিন পর মেয়ের স্বামী তালাকনামা পাঠান। মেয়েটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে এক অনিশ্চয়তায় দিন যাপন করছেন। একপর্যায়ে গ্রামের লোকজনের কাছে বিচার চান। পরে সালিসে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শরীফের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। সালিসে উপস্থিত কয়েকজন জানান, শরীফ এ ঘটনায় জড়িত নয় বললে সালিসকারীরা তরুণীর সন্তান প্রসব হলে ডিএনএ পরীক্ষার পর বিচারকাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে ওই তরুণীর পরিবার একরকম বেকায়দায় পড়ে যায়।

Leave a Reply