ব্রেকিং নিউজ

‘ইলিশ নিয়ে বাংলাদেশকে বন্যায় ডুবিয়ে দিয়েছে ভারত’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, পূজা উপলক্ষে ভারতকে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ উপহার দেওয়া হয়েছে। আজকে দুই চালান, দুই ট্রাক গেছে মাত্র। ৫০০ টাকা কেজি হিসেবে ওখানে গেছে। আমরা বাংলাদেশের জনগণ আত্মীয়তা ভালোবাসি, পছন্দও করি। বিনিময়ে আমরা কী পেলাম? ফারাক্কার ১০৯ লকগেট খুলে দিয়েছে ভারত, আবারও বন্যা আতঙ্কের মুখে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ইলিশ মাছ উপহার দেওয়ার কারণও আছে, পেঁয়াজ ছাড়া তো আর ইলিশ মাছ খাওয়া যাবে না। তাই ভারত যেহেতু পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে এখন পদ্মার ইলিশ ঘরে নিয়ে খাবেন কিভাবে? এজন্যই হয়তো সরকার ৫০০ টাকা কেজি দরে এত ইলিশ ভারতকে দিয়ে দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, মাত্র দু’জনকে ধরলেন। এদেরকে আমি চুনোপুঁটিও বলি না, টোকাই ধরলেন মাত্র। এই প্রকারের টোকাইয়ের পকেট থেকে যদি এত টাকা বের হয় তাহলে আপনাদের রাঘব বোয়ালদের পকেট থেকে কত টাকা বের হবে- এটা দেশবাসী জানতে চায়।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, আপনি ঘর থেকে শুরু করেছেন ‘শুদ্ধি অভিযান’। আমরা আপনার এ বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। ইনশাল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি আপনি রাঘববোয়ালগুলোকেও ধরবেন বলে প্রত্যাশা রাখি।

মির্জা আব্বাস বলেন, টিআইবি রিপোর্ট বলেছে তারেক রহমানকে অপরাধী প্রমাণ করতে বাংলাদেশ সরকারের ৪৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ৪৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে এটা আমার কোন দুঃখ নাই আমার প্রশ্ন হল এই টাকা পাইলেন কোথা থেকে? কোন অ্যাকাউন্ট থেকে?

তিনি বলেন, এই সরকার রাতের অন্ধকারের সরকার। এমনকি ডাকাত সরকার বলতে আমার লজ্জা লাগে ডাকাতেরও সাহস আছে। এই সরকারের সাহস নেই, এই সরকারের লজ্জা নেই, এই সরকার রাতের অন্ধকারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে আছে। এ দেশে কোনো ভোট হয়নি ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতে হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, ইলেকশন কমিশন বলেছেন এই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাহলে আগের নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয় নাই এটা উনি ভালই জানেন। এখন আমরা এগুলো নিয়ে যখন যুদ্ধ করছি সারা বিশ্ব তখন উন্নয়নের সোপানে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ পেছনে পড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে শ্রদ্ধার সহিত বিনয়ের সাথে একটি কথা বলতে চাই কোন স্কুলে আপনি এবং আপনার ছাত্র পড়াশোনা করে এসেছেন সেটা যদি একটু বলতেন আমরা সেখানে গিয়ে মিথ্যা কথাটা একটু শিখে আসতাম। বিস্কুট আমরা চিনি না ওই স্কুলে আমরা পড়ি নাই, ঠিকানাও জানিনা।

ঢাকার সাবেক এই মেয়র বলেন, এদেশের মানুষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির অপেক্ষায় আছে আর এটাই সরকারের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেত্রী অসুস্থ মানবিক কারণে তিনি মুক্তি পেতে পারেন, চিকিৎসা পেতে পারেন। উনাকে চিকিৎসার জন্যও কোন সুযোগ দেয়া হচ্ছে না যদিও আই ওয়াশ দেয়া হচ্ছে যে ওনাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জেলখানার মধ্যে এটা কোন চিকিৎসা না। তিলে তিলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে হত্যার চেষ্টা করছে। তারা অন্যদিকে এ দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান যিনি হবেন তারেক রহমান তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

তিনি বলেন, এদেশের মানুষ মনে করে আজকে দেশে যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরের দেশের বাহিরে আন্তর্জাতিকভাবে যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা একমাত্র দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াই পাড়ে সামাল দিতে। কোন অনৈতিক সরকার এটা সামাল দিতে পারবে না।

এ সময় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী,আবুল খায়ের ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসির হায়দার,মাইনুল ইসলাম,যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দীন মামুন প্রমুখ।

Leave a Reply