ব্রেকিং নিউজ

শেষ মুহুর্তে চলছে রঙতুলি ও সাজসজ্জার কাজ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার প্রতিমা শিল্পীরা। প্রতিমার কাঠামোর মাটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপর শুরু হবে দেবী দুর্গাকে রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলার কাজ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে উপজেলার হিন্দুপাড়া গুলোতে আগাম শারদীয়া উৎসবের আমেজ লক্ষনীয়। উচু-নিচুর বিভেদ ভুলে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একত্র করে মহাসম্মেলন হয় বলে এ পূজাকে বলা হয় সার্বজনীন পূজা। আর শরৎকালে হয় বলে বলা হয় শারদীয়া উৎসব।

আসন্ন দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে উপজেলায় এবছর ছোট বড় মিলিয়ে ৫৫টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বাসাইল পৌরসভায় ১৩টি, বাসাইল ইউনিয়নে ৩টি, কাউলজানী ইউনিয়নে ৭টি, কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে ১০টি, ফুলকী ইউনিয়নে ৫টি, হাবলা ইউনিয়নে ৮টি এবং কাশিল ইউনিয়নে ৯টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে । সরেজমিনে জেলার কয়েকটি মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, তৈরি করা হচ্ছে দূর্গা, লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গনেশ, অসুর, সিংহ, মহিষ, পেচা, হাঁস, সর্পসহ প্রায় ১২ টি প্রতিমা।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দূর্গতিনাশীনী দুর্গাদেবীকে বরণ করে নিতে মন্ডপে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। ঢাক, ঢোল বাদ্যকাররা বাদ্যযন্ত্র ঠিকঠাক করে নিচ্ছে। সেইসাথে ব্যস্ত প্রতিমা কারিগররাও।

মূর্তি গড়া শেষে রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে প্রতিমা। দেবীকে স্বাগত জানাতে সর্বত্র আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের আবালবৃদ্ধ বনিতা নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষ সর্ববৃহৎ এই শারদীয় উৎসবকে স্বার্থক করতে প্রহর গুনছে। সব মিলিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে প্রতিটি পূজা মন্ডপে।

বাসাইল উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সূত্রে জানা যায়, ০৬ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ০৭ অক্টোবর মহানবমী অনুষ্ঠিত হবে। ০৮ অক্টোবর বিজয়াদশমীর দিনে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজা শেষ হবে।

বাসাইল উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সুনীল রায় স্বপন বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও প্রতিটি পূজা মন্ডপে দেবীদূর্গাকে বরণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ৫৫টি মন্ডপে আমাদের নিজস্ব ৬শত সেচ্ছাসেবক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। আশা করছি অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও পূজা সুষ্ঠু এবং সুন্দর হবে।

বাসাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম তুহিন আলী বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজা মন্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যও দায়িত্ব পালন করবে। অপরদিকে মোবাইল টিম, সাদা পোশাকে পুলিশও কাজ করবে। আশা করছি কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামছুন্নাহার স্বপ্না বলেন, সার্বজনীন শারদীয়া দূর্গা উৎসবকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত করার জন্য ইতিমধ্যেই আমাদের পক্ষ হতে সকল প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের ভ্রাম্যমান আদালন পূজার শেষ দিন পর্যন্ত অব্যহত থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ডপের জন্য চাল বরাদ্দ সহ নানাবিধ সহযোগিতা দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply