ব্রেকিং নিউজ

পাঁচ বছরের মধ্যে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রণোদনার সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে অধিক হারে মুনাফার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশে। রয়েছে তরুণ ও বর্ধমান জনসংখ্যার সুযোগ নেয়ার। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশে জনমিতিক লভ্যাংশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট’ সুযোগ বিদ্যমান। আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। চীন, ভারত এবং এশিয়ার অন্যান্য ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশ কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থানে রয়েছে। ২০৩২ সালে পৃথিবীতে এক নম্বর দেশ হবে চীন, দুই নম্বর যুক্তরাষ্ট্র, তিন নম্বর ভারত, চার নম্বর জাপান এবং পাঁচ নম্বর হবে জার্মানি। চীন, ভারত এবং জাপান এই তিনটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের মাঝে থাকবে বাংলাদেশ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং গ্লোবাল আউট সোর্সিংয়ের একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। সুতরাং কৌশলগত কারণেই বাংলাদেশকে এড়িয়ে বিশ্বের সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে প্রভাবশালী ২০ দেশের তালিকায় আসবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যেসব দেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, তার মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে। ওই সময় বৈশ্বিক জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে – এমন শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় ঢুকবে বাংলাদেশ। রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘হার্নিসিং ব্লকচেইন টেকনোলজি ফর ডেভেলপমেন্ট আনলিজিং দ্য পোটেনসিয়াল অব বাংলাদেশ ফর ব্লকচেইন এপ্লিকেশনস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ইলাহী চৌধুরী এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল আরো বলেন, পাশাপাশি এখন যেসব মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে, এগুলো শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে, সে জন্য নতুন প্রযুক্তি আনতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চলে এসেছে – এই সময় রবোটিকস, আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স বায়োটেকনোলজি, ন্যানো টেকনোলজি ভূমিকা রাখবে। যেখানে ব্লকচেইন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে হয়তোবা চাকরি কমে যাবে। তবে আবার নতুন নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে, মানবসম্পদ সমৃদ্ধ হবে। শিল্প খাতে দ্রুত উন্নতি আনতে হবে, জনমিতির সুবিধা নিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিত্ত বৈভব আকর্ষণ করে না। দেশের মানুষের ভালবাসা তাঁকে আকৃষ্ট করে। তিনি সাধারণ মানুষের উন্নতিতে কাজ করছেন।

এতে স্বাগত বক্তব্যে এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতি ও সামাজিক উন্নতি এখন বিশ্বে মডেল। সম্প্রতি এডিবি’র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অগ্রগামী। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হবে। এছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশ ভাল। প্রতি বছর শ্রমশক্তিতে ২০ লাখ তরুণ যুক্ত হচ্ছে। জনমিতির সুবিধা নিতে পারলে উন্নতি আরো বেগবান হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন মডেল। বৈশ্বিকভাবে ব্লকচেইন বেশ কার্যকর প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশে এটি কার্যকর করলে সব ক্ষেত্রেই কার্যকর সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং পরিচালন খরচ কমিয়ে আনা যাবে।

Leave a Reply