ব্রেকিং নিউজ

জুয়া খেলা ছাড়াও সিঙ্গাপুরে যার সাথে সময় কাটান যুবলীগের সম্রাট

নিউজ ডেস্ক- ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে জুয়াড়িদের কাছে পরিচিত তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইসমাইল হোসেন সম্রাট সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতেন ৩টি ক্যাসিনো। এগুলো হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, ব্রাদার্স ক্লাব ও বনানী এলাকার গোল্ডেন ঢাকা।

এছাড়া মতিঝিল এলাকার ফুটবল ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, সোনালী অতীত, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্রাটের হাতে।

সম্রাটের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার সাহেব বাজার এলাকায়। তিনি প্রয়াত ফয়েজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। সম্রাট যুবলীগে খুবই প্রভাবশালী এক নেতা। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তী কাউন্সিলে অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ এ ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। যুবলীগের দিবসভিত্তিক কর্মসূচি এবং রাজধানীতে আওয়ামী লীগের জনসভাগুলোতে সব সময়ই বড় শোডাউন থাকত সম্রাটের লোকজনের।

আলোচিত এ সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো- টাকার বস্তা নিয়ে তিনি জুয়া খেলতে যান সিঙ্গাপুরে। মাসে অন্তত ১০ দিন সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলেন। এটি তার নেশা। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জুয়ার আস্তানা মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকেও আসেন জুয়াড়িরা।

কিন্তু সেখানেও সম্রাট ভিআইপি জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত। প্রথম সারির জুয়াড়ি হওয়ায় সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করার বিশেষ ব্যবস্থাও আছে। এয়ারপোর্ট থেকে মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনো পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিলাসবহুল গাড়ি ‘লিমুজিন’যোগে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ দক্ষিণের নেতা আরমানুল হক আরমান, মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে সাঈদ কমিশনার, সম্রাটের ভাই বাদল ও খোরশেদ আলমও মাঝেমধ্যে তার সফরসঙ্গী হন।

সূত্র আরও জানায়, জুয়া খেলা ছাড়াও সিঙ্গাপুরে এক চীনা বান্ধবীর সঙ্গে সময় কাটান সম্রাট। সেই নারীর নাম সিন্ডি লি বলে জানা গেছে। মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে সেই নারীকে নিয়ে যান কখনও সম্রাট।

সিন্ডি লি এর পরিচয়টি জানা যায় ২০১৮ সালের শেষদিকে। সে সময় সিঙ্গাপুরে সিন্ডি লির জন্মদিনে অংশ নেন সম্রাট। বান্ধবীর জন্য বড় আকারের একটি পার্টির আয়োজন করেন।

অন্তরঙ্গময় ছবিও তোলেন। জাঁকজমকপূর্ণ ওই পার্টিতে সম্রাটের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ দক্ষিণের সহসভাপতি আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদও উপস্থিত ছিলেন। সম্রাটের সঙ্গে সিন্ডি লি একটি ছবি ইতিমধ্যে এখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে।

সম্প্রতি ক্যাসিনো-জুয়াবিরোধী অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের অনেকেই জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন- ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসার মূলে আছেন সম্রাট। তার হাত ধরেই ক্যাসিনোর প্রসার ও বিস্তার। সম্রাটকে গ্রেফতার করতে পারলেই অবৈধ এ বাণিজ্যের আদি-অন্ত বের করা যাবে। বন্ধও করা সম্ভব অবৈধ এ ব্যবসা।

এদিকে ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সন্ধানে র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হচ্ছে। অবৈধ জুয়া-ক্যাসিনো, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আগেই মাঠে নেমেছে র‌্যাব। এবার পুলিশও তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে।

তবে সম্রাটের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সম্রাট কোথায় এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া দুষ্কর হয়ে গেছে। কেউ বলছেন সম্রাট আত্মগোপনে রয়েছেন। কেউ বলছেন, ছয় দিন ধরে কাকরাইলের কার্যালয়েই অবস্থান করছেন এই ক্যাসিনো সম্রাট।

পুলিশ বলছে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে আছেন। তাকে গ্রেপ্তারের কাজ করছে আইনশৃংখলা বাহিনী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার বলেন, ক্যাসিনোসংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব বদ্ধপরিকর।

যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনাদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে আমাদের সহযোগিতা করতে পারেন।

Leave a Reply