ব্রেকিং নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দেশের ‘কোনো লেভেলেই’আলোচনা হবে না। তিনি আরো বলেন, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটন সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের যে নীতি গ্রহণ করেছে সেটাও ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তেহরানে আলেমদের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের ক্লাস নিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার অর্থ হবে ওয়াশিংটনের অযৌক্তিক চাপের কাছে মাথা নত করা। আলোচনায় বসলে ওয়াশিংটন তার দাবিদাওয়া ইরানের ওপর চাপিয়ে দেবে এবং তারা তখন বলবে, তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিতে কাজ হয়েছে।

আয়াতুল্লাহা খামেনি, ঠিক এ কারণেই ইরানি কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট হোন অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে তাদের বিরোধিতা ঘোষণা করেছেন।

তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো লেভেলেই দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় কোনো ধরনের আলোচনা হবে না।

তবে আলোচনার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেননি খামেনি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পরমাণু সমঝোতা চুক্তি থেকে ফিরে আসে তাহলে ওই সমঝোতার গঠনকাঠামোর আওতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে বহুপক্ষীয় আলোচনায় বসবে তেহরান। এছাড়া নিউইয়র্ক বা অন্য কোথাও কোনো মার্কিন কর্মকর্তারা সঙ্গে ইরানের কোনো কর্মকর্তা আলোচনায় বসবেন না।

চলতি মাসের শেষ দিকে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের অবকাশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বৈঠকে বসতে পারেন বলে যখন পশ্চিমা গণমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা চলছে তখন এ কঠোর অবস্থান ঘোষণা করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে ইরান বিশ্বের ছয়টি পরাশক্তির সাথে তার পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আসতে সম্মত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন এবং রাশিয়া, অর্থাৎ পি ফাইভ প্লাস ওয়ান নামে পরিচিত পরাশক্তিগুলি ছিল এই চুক্তির অংশীদার। চুক্তির পর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে ইরান।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান সংবেদনশীল পরমাণু কর্মকাণ্ড সীমিত করতে রাজি হয় এবং দেশটির বিরুদ্ধে আনা অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেবার শর্তে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পরমাণু কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে অনুমতি দেয়। এরই প্রেক্ষিতে তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্য দেশগুলো ।

কিন্তু গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দেশকে এই সমঝোতা থেকে বের করে নিয়ে তেহরানের ওপর একতরফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেন। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এরই প্রেক্ষিতে পরমাণু কর্মসূচি জোরদার করার হুমকি দিয়েছে ইরান।

Leave a Reply