ব্রেকিং নিউজ

জয়-নতুনের জয়

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ছাড়পত্র’ কবিতার অংশবিশেষ তুলে ধরেই আজকের সম্পাদকীয়। ‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান; জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে চলে যেতে হবে আমাদের। … শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’ কী অসম্ভব সত্য উচ্চারণ! গত শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম কবি উচ্চারিত পঙতিমালা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিল, ‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান …।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফিফ নবাগত। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে নবাগত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নবজাতক বললে বেশি বলা হবে না। কবির কথন সত্য হলে, তাকে স্থান ছেড়ে দিতে হবে। আমরাও তাকে স্থান ছেড়ে দিতে কার্পণ্য করিনি। আফিফও তার পূর্বসূরিদের মানরক্ষা করেছেন। আফিফের কথা স্মরণে রেখে আমাদের ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের কথা ভাবতে হবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আফিফের মতো মেধা ও দক্ষ শিশু ক্রিকেট কারিগরদের দলে স্থান করে দিতে হবে। দলকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ক্রিকেটে আফিফের মতো মেধা এবং দক্ষতাসম্পন্ন আরো একজন ব্যাটসম্যান এবং সমমর্যাদার দুজন বোলার দলে যোগ করতে পারলে যোগ্যতার দিক থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অনেকখানি এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

বিশ্বাসের সম্মান রেখেছেন। তিনি এসেছেন, দেখেছেন এবং জয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের বিশ্বাসকে মজবুত করেছেন। রায়ান বার্লের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পাল্টা জবাব দিয়েছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। নবীন আফিফের ব্যাটিং দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে অবিশ্বাস্য জয় পেল বাংলাদেশ। ২৬ বলে ৮টি চার এবং ১ ছক্কায় ৫২ রানের অসাধারণ ইনিংস উপহার দিয়ে তিনিই ম্যাচসেরা। বয়স মাত্র ১৯। সামনে অনেক পথ। নিজেকে মেলে ধরার জন্য অনেক সময় তিনি পাবেন। এ সময়ের মধ্যে নিজেকে সমান মেজাজে ধরে রাখার কাজটি সহজ নয়।

এর জন্য প্রয়োজন ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য, সততা এবং কঠিন অনুশীলন। জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও হতে হবে শতভাগ সুশৃঙ্খল। মনে রাখতে হবে, ম্যাচ আপনাকে দিয়েছে অগণিত মানুষের ভালোবাসা, দিয়েছে সম্মান- তাকে যেন কখনো হারাতে না হয়। নিজেকে গড়তে হবে সেভাবেই, যা পেয়েছেন তা আপনার অর্জন। এ অর্জনকে ধরে রাখতে হবে। আমাদের বিশ্বাস তা আপনি পারবেন। দিনের প্রথম সূর্যই বলে দেয় দিনটা কেমন যাবে।

বাংলাদেশ দল যখন ডুবতে বসেছে, ৬০ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে দল যখন ধুঁকছে- ঠিক তখনই হাল ধরতে এগিয়ে এলেন আফিফ। সমুদ্রঝড়ে ডুবতে যাওয়া নৌকাকে দক্ষ নাবিকের মতো টেনে তুললেন বন্দরে। এখানে আরো একজনের কথা না বললেই নয়। দুর্যোগকালীন সময়ে একজন তরুণও শিরদাঁড়া টানটান করে দাঁড়িয়েছিলেন আফিফের পাশে। যিনি মোসাদ্দেক। ভবিষ্যতে হতে পারেন দলের একজন পরিণত অলরাউন্ডার। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও সে রকম।

শেষ করার আগে শুরুতেই ফিরতে চাই। নতুনদের জন্য আমরা যেমন স্থান ছেড়ে দিতে কার্পণ্য করব না, নবীনরাও তাদের পূর্বসূরিদের মর্যাদা রক্ষায় তাদের শেষটাও ঢেলে দিতে কার্পণ্য করবে না- এটাই হোক আজকের প্রত্যাশা।

#প্রতিদিনের সংবাদ

Leave a Reply