ব্রেকিং নিউজ

সরিষাবাড়ীতে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুককে গলা কেটে হত্যা

ইসমাইল হোসেন , সরিষাবাড়ী (জামালপুর)প্রতিনিধি ঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড়ের ঝিঙ্গারপিঠা গ্রামের মৃত মাজম আলী চৌকিদারের ছেলে আবুল কালাম(৫০)কে গলা কেটে হত্যা করেছে দূবৃর্ত্তরা।

নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রোজ সোমবার রাতে কে বা কারা ফোন দিয়ে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। নিহতের স্ত্রী আন্না বেগম বলেন গতকাল রাত ৯ টার দিকে আমার স্বামী তার দেড় বছর বয়সী নাতনী জাকিয়াকে সাথে নিয়ে খেলা করছিলেন আর টিভি দেখছিলেন।এমন সময় ২/৩ বার ফোন আসে। তিনি ফোনটা ধরে বলেন আমি আসছি। আমি জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,পুরুষ হয়ে পুরুষের সাথে কথা বলছি।তোমার এতো জানার প্রয়োজন নেই। এই বলে আবুল কালাম শার্ট নিয়ে বেরিয়ে যান ঘর থেকে এবং যাবার সময় বলে যায় আমতলা যাচ্ছি। কিন্তু ১ থেকে দেড় ঘন্টা অতিবাহিত হয়ে যাবার পরেও যখন আবুল কালাম ঘরে ফিরছিলো না।

তখন তারা তার মোবাইলে ফোন দেন। প্রথমে মোবাইলটি রিং হলেও দ্বিতীয় বার বন্ধ বলে। তাই স্ত্রী আন্না প্রতিবন্ধী স্বামীর খোঁজ নেন গ্রামের প্রতিটি লোকালয়ে।কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায় না। তারা এবাড়ী ওবাড়ী খোঁজাখুঁজি করে হতাশ হয়ে চলে আসে বাড়ীতে। কিন্তু প্রতিবন্ধী মানুষটি কোথায় যেতে পারে এই দুঃচিন্তায় সারাটি রাতকাটে উদ্বিগ্নতায়। ভোর হতেই খবর আসে। কাকে যেন মেরে ফেলে রেখেছে পশ্চিমের ডুবার কাছে। কথাটি শুনার সাথে সাথেই আন্না বেগম ছুঁটে যায় উন্মাদের মত। গিয়ে দেখে বিবস্ত্র অবস্থায় গলাকাটা নিথর দেহটি পড়ে আছে পরিত্যক্ত জমিনে। আন্না বেগম চিৎকার দিয়ে লুটে পড়ে মাটিতে। স্তব্ধ হয়ে যায় ভোরের কোলাহল।

আন্না বেগমের উন্মাদনা আর আর্তনাদের ধ্বনি সাথে সাথেই অত্রাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে। আসতে থাকে পিপীলিকার মত দল বেঁধে নারীপুরুষ। সকলের মূখে একটিই কথা এমন নির্মম ভাবে মানুষ হত্যা করতে পারে মানুষ হয়ে মানুষকে। কতটা জঘন্য আর মনুষ্যত্বহীন হলে এমনটি হয়। ভাবা যায় না। আবুল কালামের স্ত্রী আন্না বেগম বলেন, আমার স্বামী প্রায় ২০ বছর পূর্বে প্যারালাইসিসের বাতাস লেগে পুঙ্গ হয়ে যায়। তখন থেকে আমি অন্যের বাড়ীতে কাজ করি এবং আমার স্বামী ভিক্ষা করে। আমাদের ২টি ছেলেমেয়ে। ছেলের নাম ন্নাজু আর মেয়ের নাম কাঞ্চন মালা বলে জানান।

গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুর জব্বারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা আবুল কালামকে কখনো কারো সাথে ঝগড়া করতে দেখিনি। ওর মত মানুষকে কেউ হত্যা করতে পারে। এটা আমার বোধগম্যে আসে না। ওর না আছে অর্থসম্পদ, না আছে ওয়ারিশান। কেন এমন নির্মম হত্যাকান্ড ঘটবে, নিশ্চয় রহস্যময়। এদিকে পুলিশ প্রশাসন জানতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ ছুঁটে আসে ঘটানাস্থলে। উপস্থিত মিডিয়ার সম্মুখে লাশের সুরুতহাল সনাক্ত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে বলে জানা যায়।

Leave a Reply