ব্রেকিং নিউজ

যমুনায় গো-খাদ্যের সমারোহ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা অংশে যমুনার নদীর পানি তীব্র হাড়ে কমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্যা চর। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর জেগে ওঠা প্রতিটা চরাঞ্চলে দ্বীপে ঘাস, কাঁশ ঝাড়, কলমি ও বিভিন্ন লতা পাতায় ছেয়ে গেছে। এতে করে গরু ও ছাগলের গো-খাদ্যের বিশাল এক সমারোহ হয়েছে। দূর থেকে তাকলে মনে হয় জেগে ওটা চরগুলোতে সবুজের নীলাভূমি।

এ দিকে, চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষগুলো জেগে ওঠা চর থেকে ঘাস সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে চালাচ্ছে সংসার। এছাড়াও নিজেদের গরু, মহিষ ও ছাগলের খাদ্য হিসেবেও প্রয়োজন মিটাচ্ছেন তারা। ভোর সকালে পাখির কিচিমিচি শব্দের সাথে সাথেই কৃষক-কৃষাণিরা দল বেঁধে হাতে কাস্তে (কাঁচি), প্লাস্টিকের বস্তা ও ঘাসের আঁটি বাধার জন্য রশি (দঁড়ি) নিয়ে ছোট ছোট ডিঙি দিয়ে নৌকাযোগ নদী পাড় হয়ে ছুটে আসছেন চরে ঘাস কাটার জন্য।

যমুনা নদীর কোনাবাড়ী, নলছিয়া, কালিপুর, রুলীপাড়া, গাবসারা, রামপুর, শুশুয়া, গোবিন্দগঞ্জ, চৌদ্দবাড়ী, জুংগীপুর, বাসুদেব কোল, ভদ্রশিমুলসহ নাম না জানা প্রায় অর্ধশতাধিক চর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়সের লোক ও মহিলারা চরে ঘাস কাটছে। কাজ করছে বিভিন্ন ধরণের। ঘাসের মধ্য রোপণ করা হচ্ছে মৌসুমি বিভিন্ন ধরণের রবি ফসল।

কোনাবাড়ী চরে ঘাস কাটতে আসা মো. আব্দুল করিম মিয়া বলেন, গত বছরই যমুনা নদীর গর্ভে বসতভিটা হারিয়েছি। অবশিষ্ট ২ শতাংশ জমি ছিল তা এবার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। বন্যার সময় এ সব কিছু হারিয়ে রাস্তার পাশে রাত্রিযাপন করতে হয়েছে। এখন নদীর পানি কমে যাওয়ায় অনেক চর জেগেছে। অন্যের জমির উপর টং ঘর তুলে চরের মধ্য থাকতেছি। আর গরু ছাগল চরাচ্ছি। পাশাপাশি ঘাস কেটে তা পার্শ্ববর্তী এলাকার নিকরাইল ইউনিয়নের ন্যাংড়া বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছি। অন্য কোনো কাজ কামও তেমন পারি না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাম ঝড়ানো গরম ও তীব্র রোদ অপেক্ষা মাথায় গামছা বেঁধে ও মাথাইল দিয়ে ঘাস কাটছে, কেউ গরু-ছাগল চরাচ্ছে, কেউ পরিস্কার জমিতে চাষ করে ও চাষ ছাড়াই বালুতে রবি ফসল রোপন করছে, আবার কেউ কাজের ফাঁকে ফাঁকে রাখালিসুরে গানও গাইছে। তাদের সহযোগিতা করতে নারী ও ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েরা।

কালিপুর চরে আব্দুল আলিম বলেন, যমুনা নদীর পানি কমে এখন ধূ-ধূ বালুচর ও দ্বীপে পরিণিত হচ্ছে। বন্যায় সময় গরু-ছাগলের গো-খাদ্যে তীব্র সংকট দেখা দেয়। কিন্তু বর্তমানে চরে গরু-ছাগলের খাদ্যের অভাব নেই। সকাল বেলা মাঠে (চরাক্ষেত) ছেড়ে দেই, সারাদিন ঘাস খেয়ে সন্ধার আগেই গোয়ালে ফিরে আসে। এ ৬/৭ মাস অর্থাৎ আগামীতে বন্যা না হওয়া পর্যন্ত গো-খাবারের কোনো সমস্যা নেই। আরো বলেন, ফরমালিনমুক্ত ঘাস খেয়ে অল্পদিনেই গরু-ছাগল মোটাতাজা হয়ে যায়। তাছাড়া ফিট জাতীয় খাবারও খাওয়াতে হচ্ছে না।

যমুনার চরে ঘাস কাটার সময় ও ছাগল চরাচ্ছিলেন কুলসুম বেগম। তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, চরে ঘাসের অভাব নেই। তাই অন্যের কিনে দেয়া ১টি গাভী গরু ও ৩ টা ছাগল বর্গা নিয়েছি। ৬ মাস পালবো। এরপর এগুলো দ্বিগুণ টাকায় হাটে বেচা (বিক্রি) যাবে। লাভের অর্ধেক বর্গা আলায় দিবে আমায়। এছাড়াও প্রতিদিন ১০০/১৫০ টাকা ঘাসও বেচতে পারি। এতে করে ছেলে-মেয়েদের পড়ার খরচ ও সংসারও চলে মোটামুটি ভালো।

Leave a Reply