ব্রেকিং নিউজ

সরিষাবাড়ীতে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা লম্পট শিক্ষকের

ইসমাইল হোসেন, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি ঃ কালের পরিক্রমায় পৃথিবীর মানুষ তার পরিবর্তন এনেছে নিজের অস্তিত্বের। ফিরে পেয়েছে অসভ্যতা থেকে সভ্যতা। বুঝতে শিখেছে মনুষ্যত্বের অর্থ। তাই প্রধান্য দিয়েছে নৈতিকতা আর মানবিকতার মূল্যবোধককে। কিন্তু এখন দেখি সবি মিছে। মানুষ তার স্বভাবকে আজও পরিবর্তন করতে পারেনি। নিজেকে শুদ্ধ করতে পারেনি শিক্ষার অনলে পুড়েও।

কুশিক্ষাকে হৃদয়ে লালন করে আজও করে যাচ্ছে ঘৃনিত নিষিদ্ধ কুকর্ম। যেমনটি করেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত দেলোয়ার শেখের ছেলে আয়েব আলী (৪৫)। জানা গেছে আয়েব আলী পশ্চিম নলসন্ধ্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি গত ১৭ আগষ্ট বিদ্যালয়ে আসেন। এসে বিদ্যালয়ের ক্লাশরুম ও অফিসরুম ঝাড়ু দেয়ার জন্য একজন ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ডাকেন এবং বলেন ভালো করে পরিষ্কার করতে। তখন ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছাঃ খুশী আক্তার (১২) রুমগুলো ঝাড়ু দিতচ্ছিল। বন্যা ও ঈদের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ক্লাশ রুমগুলো ধুলাবালিতে একটু বেশীই অপরিষ্কার ছিল।

যার করণে শিক্ষার্থী শিশুটির সময় বেশী লাগছিল ঝাড়ু দিতে। অনেক দিনপর স্কুল খোলাতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা একটু কম ও দেরীতেই আসতে ছিল বলে জানা যায়। এদিকে নারীলোভী যৌন সন্ত্রাসী শিক্ষক আয়েব আলী শিশুটির পিছনে ঘুরতে থাকে সুযোগের অপেক্ষায়। শিক্ষার্থী খুশী যখন ক্লাশরুম পরিস্কার শেষ করে অফিস রুমে যায়। তখন লম্পট শিক্ষক পিছেপিছে গিয়ে খুশীর ডান বুকে ২ বার করে চিপ দেয়। খুশী তখন চিৎকার দিতে চাইলে তার মুখচেপে ধরে মারার হুমকি দেয়। শিশুটি ভয় পেয়ে দৌড়ে বাড়ীতে চলে আসে এবং তার মাকে বলে। মা রোকেয়া বেগম তার স্বামী হেলাল উদ্দিনকে বিষয়টি জানালে। তৎক্ষণাৎ হেলাল উদ্দিন স্কুলে গিয়ে দেখে সহকারী শিক্ষক আয়েব আলী পলাতক। তখন শিশুটির বাবা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোরহাব হোসেনের কাছে বিচার দিলে সভাপতি নিজেও চেষ্টা করে তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করতে কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান। ইতিমধ্যে বিষয়টি এলাকায় জুড়ে জানাজানি হয়ে যায়। সকলেই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।

পরের দিন ১৮ আগষ্ট সকালে শিক্ষক আয়েব আলী স্কুলে এলে এলাকাবাসী তাকে গণধোলাই দেয় বলে জানান অনেকেই। এবং শিক্ষক আয়েব আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন সকলের সম্মুখে। সভাপতি সোরহাব হোসেন বলেন উক্ত শালিসিতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সুজাত আলী,কাজিপুর কাজল গ্রামের আব্দুল হাই মেম্বার,নলসন্ধ্যার সাবেক মেম্বার কোরবান আলী,বর্তমান মেম্বার ছাইফুল ইসলাম ও ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্যবৃন্দ ও শিক্ষকমণ্ডলী। একদিকে গণধোলাইয়ের শিকার শিক্ষক আয়েব আলী সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং চিকিৎসারত অবস্থায় সরিষাবাড়ী থানায় ৭জনকে আসামী দিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকা সাজেদা বেগমের স্বামী ও শ্লীলতাহানি শিক্ষার্থীর মামা আব্দুল কাদেরকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। জানা গেছে শিক্ষার্থীর মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর (সং/০৩) এর ১০ দ্বারায় একটি মামলা দায়ের করেন লম্পট শিক্ষক আয়েব আলীর বিরুদ্ধে।

তাই শিক্ষক আয়েব আলীকে উক্ত বিষয়াদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং চক্রান্তমূলক। স্কুলের বিভিন্ন বরাদ্দকৃত অর্থের টাকা উত্তোলন নিয়েই মূলত এই বিভাজন সৃষ্টি। কিন্তু নলসন্ধ্যা গ্রামের নৌকার মাঝি নুরু কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, শিক্ষক আয়েব আলী একজন যৌন সন্ত্রাসী। তিনি একবছর পূর্বেও ১১১ নং রসপাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর সাথে এমনি একটি ঘটনা ঘটিয়ে ছিলেন।এসব শিক্ষককের কাছে আমাদের শিশুরা নিরাপদ নয়। এদেরকে চাকুরীচ্যুত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা উচিত।

Leave a Reply