ব্রেকিং নিউজ

সরিষাবাড়ীতে আট বছরের এক শিশুকে বলাৎকার করেছে এক লম্পট যুবক

ইসমাইল হোসেন সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কামরাবাদ গ্রামে বেপারী পাড়া এলাকায় আব্দুল খালেকের ছেলে বিপ্লব হোসেন (০৮) কে একই গ্রামের বাসিন্দা জবান আলীর লম্পট ছেলে নাছির উদ্দিন (১৭) বলাৎকার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।

পারবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আব্দুল খালেক একজন ক্ষুদ্র তেল ব্যবসায়ী। তিনি গ্রামাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তেল বিক্রি করেন। তার ২টি ছেলেমেয়ে। মেয়েটি বড় এবং ছেলেটি ছোট।ছেলেটি তেমন চালাকচতুর নয়। সকলেই তাকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হিসেবে জানে এবং সবাই তাকে ভালোবাসে ও আদর করে। শিশু বিপ্লব সকলেরি স্নেহভাজন। সে ছোটবড় সকলের সাথেই খেলা করে এবং যে ডাকে তার সাথেই চলে যায়।

তাই গত ৩১ জুলাই দুপুর ২টার দিকে পাড়ার ছেলেদের সাথে টিভি দেখার জন্য প্রতিবেশী নাছিরদের বাড়ীতে গেলে দুশ্চরিত্র লম্পট নাছির শিশুটিকে পাশের রুমে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। যার কারণে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ী চলে আসে। এবং তার মাকে বলে নাছির আমাকে খারাপ কাজ করেছে। শিশুটির মা, বিমলা বেগম সেও একজন অপরিপক্ব মানুষ। তবুও তার বুঝার বাকি নেই, তার ছেলের সাথে কি হয়েছে।মলদ্বার দিয়ে রক্তঝরছে এবং পরনের হাফপ্যান্টটি রক্তমাখা দেখতে পেয়ে কাঁদতে থাকে মা বিমলা। এদিকে বিপ্লবের বাবা আব্দুল খালেক বাড়ীতে এসে দেখে তার ছেলে অসুস্থ।

ছেলের কাছ থেকে বিষয়াদি জেনে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার জন্য সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে। উক্ত বিষয়টি বিপ্লবের বাবা এলাকায় গণ্যমান্যদের জানালে নাছির আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে গত ০১ আগষ্ট বিকালের দিকে বেধড়ক মারপিট করে শিশুটির বাবা আব্দুল খালেকে। স্ত্রী বিমলা স্বামীকে বাঁচাতে এলে তাকেও মারধোর করে বলে জানা যায়। এলাকাবাসী বলেন, নাছির খালেকের ছেলেকে বলাৎকার করেছে একথাটি সে কেন ঘুরেঘুরে বলছে। এই জন্য খালেককে মেরেছে নাছির। যদিও উক্ত বিষয়টি নিয়ে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিচার করবেন বলে আশান্বিত করে ছিলেন আব্দুল খালেককে।

কিন্তু নাছির সেই বিচারকার্য নষ্ট করে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে মিডিয়ার লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য এলাকায় গেলে ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন। নাছিরের পরিবারের কাহুকে বাড়ীতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। সকলেই পলাতক বলে জানান নাছিরের নানী। উক্ত বিষয়টি এলাকার মধ্যে চাঞ্চল্যতা সৃষ্টি করেছে। তাই এমন অমানবিক অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পর্কে সরিষাবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ মাজেদুর রহমান অবগত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply