ব্রেকিং নিউজ

লিটন বা মিঠুন কি সত্যিই মুশফিকের চেয়ে ভালো কিপার

২০১৯ বিশ^কাপ। ক্রিকেট খেলা অনিশ্চয়তাময়, ওয়ানডের ক্ষেত্রে সেটা আরো সাংঘাতিক। গত ২ জুন আর ৫ জুন, তিন দিনের ব্যবধানে দেখেন বাংলাদেশ দলকে কীরকম বিচার করছি। ৫ তারিখের ম্যাচ হারের পর যেন প্রথম দেখছি আমাদের ক্যাপ্টেন পুরো ফিট নন। তার কাছে ১০ ওভার নিয়ন্ত্রিত বোলিং চাওয়াটা একটু বাড়াবাড়িই বটে! হঠাৎ করেই আমরা বুঝতে পারছি, মুশফিক দুর্বল উইকেট কিপার।

আমাদের মনে রাখতে হবে, মুশফিক কিপিং করেন বলেই আমরা একজন স্পেশালাইজড ব্যাটসম্যান বা একজন বোলার বাড়তি খেলাতে পারি। তিনি ছাড়া আমাদের অপশন লিটন দাশ বা মোহাম্মদ মিঠুন। তাদের মধ্যে দলে যে থাকবেন তাঁকে দিয়ে কিপিং করালে মুশফিককে অন্য জায়গায় ফিল্ডিং করতে হবে। সেটা দলের জন্য কতটা ইতিবাচক হবে আমাদের জানা নেই। আর লিটন বা মিঠুন কি সত্যিই মুশফিকের চেয়ে ভালো কিপার?

অন্যদিকে আমাদের মনে রাখা উচিত। মাশরাফি ক্রিকেট খেলছেন স্রেফ অতিমানবীয় আবেগ দিয়ে। একনজর দেখলেই বোঝা যায় খেলা চালিয়ে যেতে শরীর তাকে আর সার্পোট দিচ্ছে না। শুধু দলের সবার মধ্যে বোঝাপড়া ঠিক রাখতে এবং সবাইকে চাপমুক্ত রাখতে খেলে যাচ্ছেন তিনি। এটা এক ধরনের ক্যালকুলেটেড রিস্ক, এই মুহূর্তে যার কোনো বিকল্প আমাদের হাতে নেই। দ্বিতীয়ত মাশরাফির চতুর বোলিং পরিবর্তনই কিন্তু আমাদের খেলায় ফিরিয়ে এনেছিল।

মুশফিকের কিপিংয়ের এত সমালোচনা করছেন? ভাবুন তো ডি কক-এর ওই রান আউটটা না হলে খেলার ফল অন্যরকম হতো কিনা? নিউজিল্যান্ডর সঙ্গে রান আউট মিস ও স্টাম্পের সামনে দাঁড়ানো নিয়ে মুশফিককে স্কুলবালকের সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকই।

আপনারা তা করতেই পারেন,কিন্তু এটাও মনে রাখবেন অনেকবারই কিন্তু মুশফিক তাঁর প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব আর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তার কিপিংয়ের ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছেন। এটাই খেলা, কোনোদিন হবে কোনোদিন হবে না।

একবার ভেবে দেখেছেন? এতসব সমালোচনায় খেলোয়াড়দের উপর কী প্রভাব পড়ে। দেশ তথা আপনজন থেকে যোজন যোজন দূরে হোটেলে একলা বসে সামাজিক মাধ্যমে ঢুঁ দেন, দেখেন দেশের মানুষ তাঁদের নিয়ে কী ভাবছে।

জানি, তাঁরা পেশাদার, তবুও এত এত সমালোচনা এত গালাগালে নিশ্চয়ই তাঁরা কষ্ট পান, কুঁকড়ে যান হয়তো খারাপ করার ভয়ে। তারপর প্রতিদিনই হয়তো অনেক চাপ নিয়ে মাঠে নামেন। আর এই চাপে খানিক মনসংযোগে ব্যাঘাত মানে আরো বাড়তি চাপ।

বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে ভালো দল, জেতার মতো দল। কিন্তু খেলায় হার-জিত থাকবেই। আর ১৭ কোটি আমাদের হয়ে যে ১৫ জন খেলছেন, তাঁরাই এই মুহূর্তে আমাদের তুরুপের তাস। আসুন, অপেক্ষা করি, জয় উদযাপন করি, হারে ধৈয্য রাখি।

Leave a Reply