ব্রেকিং নিউজ

বলছিলাম না ১৫০ এর টার্গেট দিলেও জিতবঃ নাঈম

১৫০ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিলেও ম্যাচ জেতা সম্ভব। সেটার জন্য অবশ্য স্পিনারদের বাড়তি কষ্ট করতে হবে। ঠিক জায়গায় বলিং করলে ১৫০ রানের লক্ষ্য দিয়েও ম্যাচ জয়ের আশা করছেন চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের নায়ক স্পিনার নাঈম হাসান।আর সেটাই হলো ১৩৯ রানেই গুটিয়ে গেল উইন্ডিজের সিরিজ।

বাংলাদেশ এবং ওয়েস্টইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচ টেষ্ট সিরিজের প্রথম টেষ্টে অতিথিদের ৬৪ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আজ টেষ্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্টইন্ডিজকে তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৯ রানে অল আউট করে এই জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবিয়ানদের পতনে বল হাতে নেতৃত্ব দেন তাইজুল ইসলাম। একাই নিয়ে যান ৬টি উইকেট। এছাড়াও সাকিব আল হাসান ও মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট।

তবে এই উইকেটে ব্যাটিং করা কতটা কঠিন ছিল সেটা বুঝা গেছে দুই দলের দ্বিতীয় ইনিংস দেখেই। বিশেষ করে স্পিনের বিপক্ষে এই পিচে ব্যাটিং করা ছিল খুবই কঠিন। আর এই কঠিন উইকেটে ম্যাচ জয়ের কারন হিসেবে টস জিতাকেই সামনে আনলেন মুমিনুল হক।

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা ও ম্যাচ সেরা মুমিনুল বলেন, টস জিতাটা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। তখন উইকেট ভালো ছিল এবং আমরা সেই সুবিধাটা কাজে লাগিয়েছি। আর প্রথম সুবিধাটা কাজে লাগানোর কারনেই আমাদের রানটা ভালো হয়েছে এবং আমরা ম্যাচটি জিততে পেরেছি। পাশাপাশি আমাদের স্পিনাররা দারুন বল করেছে সাকিব, নাঈম, তাইজুল, মিরাজ ভালো বোলিং করার কারনেই আমরা অল্প রানেও শেষে ম্যাচটি জিততে পেরেছি।

বাংলাদেশের দেওয়া ২০৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৩৯ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। ৬৪ রানের জয় নিয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ দল। শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেট তুলে নেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কাইরন পাওয়েলকে আউট করে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ২০০ উইকেট নিলেন সাকিব আল হাসান।

পরের ওভারে এসে আবারো আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। শাই হোপকে ৩ রানে আউট করেন সাকিব। সাকিবের পরের ওভারেই বল করতে এসে প্রথম বলে উইকেট তুলে নিলেন তাইজুল ইসলাম। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে এল বি ডব্লিউ ফাঁদে ফেলেন তিনি। ওভারের পঞ্চম বলে রস্টন চেজকে শূন্য রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরান তাইজুল।

মোট ৬ ওভারে ১১ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে এখন মহা বিপদে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরেই বাংলাদেশি বোলারদের চার ছক্কা মেরে বিপদে ফেলে দেন শিমরন হেটমেয়ার। বিপদজনক হয়ে ওঠার আগেই দলীয় ৪৪ রানের মাথায় তাকে আউট কজন মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে এর পরই চলে তাইজুল শো।

দলীয় ৫১ রানের মাথায় শেন ডওরিচকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। এরপর দেবেন্দ্র বিশুকে ৫ রানে ক্লিন বোল্ড এবং কেমার রোচকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ক্যারিয়ারে সপ্তমবারের মতো ৫ উইকেট এর দেখা পেলেন তাইজুল। কিন্তু এর পরেই ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে ওঠে অষ্টম উইকেটে জুটি। জোমেল ওয়ারিক্যান এবং সুনীল অ্যামব্রিস এর জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু এই উইকেট জুটি কে ভাঙেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ৬৩ রানের এই জুটি ভাঙ্গেন মেহেদি হাসান মিরাজ। জোমেল ওয়ারিক্যানকে ৪১ রানে আউট করেন তিনি। এর পরের ওভারে ৪৩ রান করা সুনীল অ্যামব্রিসকে আউট করে জয় নিশ্চিত করেন তা ইজুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন লাঞ্চের আগে শেষ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। দেবেন্দ্র বিশুর দারুণ বোলিংয়ে ১২৫ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের লিড সহ বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০৩ রান। জয়ের জন্য ২০৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বৃহস্পতিবার প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ৩১৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশে। এরপর শুক্রবার প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৪৬ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই দিনে শেষ সেশনে ৭৮ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল লাল-সবুজরা।

Leave a Reply