ব্রেকিং নিউজ

যে কারনে টি-টেন লিগের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগ

ক্রিকেটের পথপরিক্রমায় প্রায় দেড় বছরের ইতহাসে কতই না পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছিল ১৯৭১ সালে। ওয়ানডে ক্রিকেটের পথচলার মধ্য দিয়ে। আবার ২০০৬ সালে শুরু হয়েছিল ক্রিকেটের আরও সংক্ষিপ্ত রূপ টি-টোয়েন্টি। ২০ ওভারের এই ফরম্যাটটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। যার ফলশ্রুতিতে শুরু হয় ফ্রাঞ্চাইজি লিগ। যার সফলতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ আইপিএল। ভারতের দেখাদেখি ফ্রাঞ্চাইজি লিগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে।

টি-টোয়েন্টির আবিষ্কারের পর ক্রিকেটকে আর কত সংক্ষিপ্ত করা যাবে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। হয়েছে গবেষণাও। শেষ পর্যন্ত আরও সংক্ষিপ্ত রূপ বের হয়ে গেলো। এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১০ ওভারের ক্রিকেট। টি-টেন লিগ। ইতিমধ্যেই একটি ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টেন লিগের আয়োজন হয়েও গেছে আরব আমিরাতের মাটিতে এবং তুমুল সাড়াও পেয়েছে আয়োজকরা। যদিও, টি-টেন ফরম্যাটকে এখনও স্বীকৃতি দেয়নি আইসিসি।

তবে টি-টেন লিগ কিন্তু তোলপাড় সৃষ্টি করে দিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে। বিশেষ করে পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে। টি-টেন লিগের কারণে দারুণ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের ফ্রাঞ্চাইজি লিগ পিএসএলের দলগুলোর মালিকরা। তারা ইতিমধ্যেই এই সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে চিঠি লিখেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছে।

পিসিবির কাছে লেখা পিএসএল ফ্রাঞ্চাইজিদের লেখা চিঠির একটি কপি পেয়েছে ইএসপিএন ক্রিকইনফোও। সেই চিঠি পড়েই বোঝা যাচ্ছে, টি-টেন লিগের সঙ্গে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে পিএসএল ফ্রাঞ্চাইজিরা। নিজেদের এই লিগটাকে রক্ষা করার জন্য পিসিবির কাছে নানা দাবি সম্পলিত চিঠিটি লিখেছেন পিএসএল দলগুলোর মালিকরা।

টি-টেন লিগের দ্বিতীয় আসর শুরু হতে যাচ্ছে চলতি মাসেরই ২১ তারিখে। শেষ হবে ২ ডিসেম্বর। অন্যদিকে পিএসএলের তৃতীয় আসর শুরু হতে যাচ্ছে আগামী বছর ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে। শেষ হবে ১৭ মার্চ।

পিসিবির কাছে পিএসএল মালিকদের প্রধান দাবি, টি-টেন লিগে যেন কোনোভাবেই পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের খেলার অনুমতি দেয়া না হয়। একই সঙ্গে টি-টেন লিগে যেন পাকিস্তানি শহরগুলোর নাম ব্যবহার করতে না পারে। আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে এই লিগে তিনটি দলের নাম রয়েছে পাকিস্তানের তিন শহরের নামে। পাখতুন, পাঞ্জাব লিজেন্ডস এবং করাচিয়ান।

পিএসএল ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর দাবি, পাকিস্তানের সমর্থকদের টানার জন্যই দেশটির শহরের নাম ব্যবহার করে আবেগি একটা আবহ তৈরি কর হচ্ছে। কারণ, পাকিস্তানের মানুষ ক্রিকেট পাগল। তাদের মধ্যে আবেগ তৈরি করা গেলে আয়োজকদের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যও সাধিত হবে। এ কারণে পিসিবির কাছে পিএসএল ফ্রাঞ্চাইজিদের অন্যতম বড় দাবি, টি-টেন লিগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ যেন অন্তত পাকিস্তানে এসে স্পন্সর খুঁজতে না পারে।

পিএসএল ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর দাবি, টি-টেন লিগ তাদের সাম্রাজ্যে হানা দিয়েছে। তাদের ভুখন্ডে এসে সাম্রাজ্য গেঁড়ে বসেছে। টি-টেন লিগের কারণে সাধারণ মানুষের সব আবেগ-অনুভুতি সে দিকে চলে যাবে। যা পিএসএলের জন্য বিরাট ক্ষতি। যে কারণে স্পন্সররাও ঝুঁকে পড়ছে টি-টেন লিগের দিকে। পিএসএল নিয়ে সবার আকর্ষণ কমে যাচ্ছে এবং আর্থিকভাবেও বিশাল ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে পিএসএল ফ্রাঞ্চাইজিদের।

এসব কারণ উল্লেখ করে পিএসএল ফ্রাঞ্চাইজি মালিকরা পিসিবিকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। না হয়, তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও চিন্তা করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে পিসিবিকে।

Leave a Reply