ব্রেকিং নিউজ

১২ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৬ চিকিৎসক, নেই কোন ওষধের ব্যবস্থা

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) চিকিৎসাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা অপ্রতুল। তাছাড়া রয়েছে অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের অভাব এবং নেই কোন ঔষধ দেওয়ার ব্যবস্থা। এমনকি এখানে নেই কোন নার্স। যার ফলে শিক্ষার্থীদের ছুটতে হচ্ছে শহরের মেডিকেল সেন্টার গুলোতে। এছাড়াও ৪টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দিনের বেলায় ডাক্তার সংখ্যা বেশি থাকলেও রাতে দায়িত্ব পালন করেন একজন ডাক্তার।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ৬ চিকিৎসকের মধ্যে একজন নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ, একজন মেডিসিন ও একজন অজ্ঞান বিশেষজ্ঞ এবং তিনজন এমবিবিএস। এদের মধ্যে একজন মহিলা তিনি মেয়েদের সমস্যা গুলো দেখেন। তাছাড়া এখানে নেই কোন ডেন্টাল ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ। এক্সরে ও আল্টাসোনো গ্রাফি মেশিনেও বন্ধ হয়ে আছে। কোন নার্স না থাকায় এখানে ইনজেকশন ও ড্রেসিং করতেও অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মিরাজুল ইসলাম সেবার মান নিয়ে অসন্তুষ্টি জানিয়ে বলেন, এখানে যেমন চিকিৎসকের অভাব রয়েছে তেমনি রয়েছে অভিজ্ঞতা সম্পর্ণ চিকিৎসকের অভাব। এখাকার চিকিৎসকে দেখাতে গিয়ে আমার কানের সমস্যা আরও বেড়ে গেছে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে ৪র্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, কিছুদিন আগে আমার জ্বর হয় এতে চিকিৎসকের কাছে গেলে আমাকে প্রায় ৬৫০ টাকার ঔষধ দেয়। কিন্তু এত টাকার ঔষধ খাওয়ার পড়ও আমার অসুখ কমেনি। পরে আমি বাইরে থেকে টিটমেন্ট নেই।

আর এক শিক্ষার্থী মো. রুবেল ইসলাম বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ওষধ প্রদান করা হয় কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ওষধ প্রদান করা হয়। আমাদের কমপক্ষে জ্বর, সর্দ্বি, মাথা ব্যাথার ওষধ গুলোদিতে পারতো। ১২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এই মেডিকেল সেন্টারে নেই কোন ওষুধের ব্যবস্থা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার গুলোতে সামান্য কিছু হলেও ওষধ প্রদান করে কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক এবং ওষধের কোন ব্যবস্থা। এতে শিক্ষার্থীর সাধারণ জ্বর, সর্দ্বি ও কমন অসুখ গুলোর জন্য বাইরে থেকে ওষধ কিনতে হয়।

এতসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কথা হয় হাবিপ্রবির চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের এখানে শিফট করে ২৪ ঘন্টায় চিকিৎসক থাকে। এখানে শিক্ষার্থীদের তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে সামনে নিয়োগে এক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আর বর্তমানে এক্সরে মেশিনে একটু সমস্যা আছে কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হবে।

আর চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানকার সবাই এমবিবিএস ডাক্তার এবং এখানে তিনজন বিশেষজ্ঞ আছে। আর মেডিকেল সেন্টারে ওষধ প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, আমাদের মেডিকেল নতুন করে সংস্কার করে আধুনিকায়ন করা হবে। এরপর থেকে মেডিকেল সেন্টার থেকে ওষধ প্রদানের আশ্বাস প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড.মো. সফিউল আমল জানান, জনবল নিয়োগ কাঠামোনীতি মালায় আমাদের ৭জন ডাক্তারের তালিকা আছে। বর্তমানে ৬জন ডাক্তার আছেন আর ১ এক জন নিয়োগের পরিকল্পনা চলতেছে। আর নতুন করে ওরগানোগ্রাম না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থী অনুযায়ী চিকিৎসক বাড়ানো সম্ভব নয়। আর ওষধ প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি বলেন উপাচার্য ছাড়া আমি কিছু বলতে পারবো না।

Leave a Reply